| রাত ১:১১ - রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

পূজা উপলক্ষে কটিয়াদীতে দেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট বসেছে

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী প্রতিনিধি,১৭ অক্টোবর ২০১৫, শনিবার:
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পুরাতন বাজারে এবারও জমবে ৫ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট। বাংলাদেশের আর কোথাও এ ধরনের বাদ্যযন্ত্রের হাট নেই বলে জানায় আয়োজকরা। প্রতি বছরের মতো এবারও শনিবার ১৭ অক্টোবর থেকে ২ দিন ব্যাপী ৫০০ শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী বিরাট হাট বসেছে। হাট শেষ হবে সোমবার ভোরে । তবে এ হাটে কেনাবেচা হয়না। পূজামণ্ডপে বাজনা বাজিয়ে আরতী দেয়া, দুর্গা মাকে খুশি করা আর দর্শক ভক্তদের আকৃষ্ট করতেই যন্ত্রি বা ব্যান্ড পার্টি চুক্তিভিওিক ভাড়া দেয়া-নেয়া হয়। দুর্গোৎসবের শেষদিন প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত বাদ্য বাজিয়ে যন্ত্রিদের বিদায় দিতে হয়। আর এর জন্যই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পূজা আয়োজকরা এ হাটে এসে দরকষাকষি শেষে চুক্তিতে বাধ্য-যন্ত্রিদের নিয়ে যায়। বৃহওর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাক্ষ্রণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক দূর্গাপূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে পুজার দু-এক দিন আগে ভাড়ায় বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রিদের নিয়ে যায়। আজও বিক্রমপুর ভাটি অঞ্চল, কুমিল্লার হাওর অঞ্চল থেকে শত শত বাদ্যযন্ত্রি এ হাটে আসেন। ঢাকঢোল, সানাই, বিভিন্ন ধরনের বাঁশি, কাঁসি, কওালসহ হাজার হাজার বাদ্যযন্ত্রের পসরায় হাট উপচে পড়ে। যন্ত্রিরা দলে দলে দফায় দফায় বাজায় বাদ্যযন্ত্র। বাজনার তালে তালে নাচ আর রং ঢংয়ের অঙ্গভঙ্গিতে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে প্রদর্শন করে কার হাতের সাফাই কত। এ সময় পুরো বাজার এলাকার আকাশ বাতাশ প্রকম্পিত হয় বাজনার মায়াবী সুরে। স’ানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ৫০০শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। র্ধম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলেই এই হাটের গৌরব ধরে রাখব ।
কটিয়াদী পুরাতন বাজারে ঢাকঢোলে হাটের পেছনে ৫ শত বছরের ইতিহাস রয়েছে। জনশ্রুতিতে আছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স’ানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ই সর্বপ্রথম তাঁর রাজপ্রাসাদে দূর্গাপুজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উওরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। আজও রাজার আমলে খনন করা কোটামন দিঘিটির মনোরম দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুদ্ধ করে। পুজা উপলক্ষে রাজাপ্রাসাদ থেকে সুদুর বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ) পরগনার বিভিন্ন স’ানে বার্তা পাঠানো হয়। ঢাকঢোল বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীদের আগমনের জন্য সে সময় নৌপথ ব্যবহার করা হতো। বাদ্যযন্ত্রীরা কটিয়াদী-মঠখোলো সড়কের পাশে পুরোনো ব্রক্ষপুএ নদের তীরে যাত্রাঘাট নামের স’ানে পূজার দুই দিন আগে এসে পৌঁছাতেন। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী মসুয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিএকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুশ হরিকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে মহা ধুমধামে পুজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে বিভিন্ন পূজার বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জমিদারদের মধ্যে ঢাকের হাটের স’ান নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অবশেষে যাত্রাঘাট থেকে স’ান পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কটিয়াদী পুরোনো বাজারে বিরাট ঢাকের হাট ঘড়ে উঠে ।
নাচসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে বাদ্যযন্ত্রিরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে থাকে। সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, বাদ্যযন্ত্র বাজনার প্রদর্শনীর পরই শুরু হয় চুক্তির দরকষাকষি। সাধারণত একটি ঢাক ১০ হাজার, ঢোল ৭-৮হাজার, বাঁশি প্রকারভেদ চার হাজার থেকে ছয় হাজার,‘ব্যান্ডপার্টি’ ছোট ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার এবং বড় ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হয়। বাদ্যযন্ত্রীরা পূজামন্ডপে বাজনাা বাজিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আকৃষ্ঠ করে থাকেন। দুর্গাপূজা শুরুর দিন থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত টানা ৫ দিন তাদের বাজনা বাজাতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর পূজার আগে আগত বাদ্যযন্ত্রীদের জন্য থাকা খাওয়ার নির্দিষ্ট স’ান নেই। ফলে নানা সমস্যায় ভোগতে হয়

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৪২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৭, ২০১৫