| সকাল ৭:০৫ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে বহু প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ বিভাগের গেজেট প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫, বুধবার,
বহুল প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ বিভাগের গেজেট গত (১৩ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-২ এর প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বাড়্গরিত এই গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জেলাকে বিভাগ প্রতিষ্ঠার লড়্গে দীর্ঘ ২৬ বছর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অবশেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিকারের বৈঠকে অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা এই ৪ জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করেন। খুব শিগগির নবগঠিত বিভাগের প্রথম বিভাগীয় কমিশনার এবং পুলিশের ডি.আই.জি নিয়োগ দেয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্য সব অফিসের কার্যালয়ও স্থাপন করা হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়।
ঢাকা বিভাগকে ভেঙে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহে এক কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৪৭ জনসংখ্যা এবং এর এই বিভাগের আয়তন ১৩ হাজার ৬৩১.১২ বর্গকিলোমিটার। নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে রয়েছে মোট ২৪টি আসন, উপজেলা ৩৫টি, থানা ৩৭টি, পৌরসভা ২৬টি, ইউনিয়ন ৩৫২টি, এবং গ্রাম ৭ হাজার ৩০টি। জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১০১০ জন প্রতিবর্গ কি:মি:। আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা: ময়মনসিংহ (৪,৩৯৪.৫৭ বর্গ কি:মি:) এবং আয়তনে সবচেয়ে ছোট জেলা: শেরপুর (১,৩৬৪.৬৭ বর্গ কি:মি:)।
ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণার সঙ্গে টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলা রেখে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের প্রসত্মাবে গত ২৬ জানুয়ায়ী, ২০১৫ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনে টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলাকে ঢাকার সঙ্গেই রাখা হয়। ময়মনসিংহ বিভাগ হওয়ার আগ পর্যনত্ম ঢাকা বিভাগে জেলা ছিল ১৭টি। নতুন বিভাগ হওয়ায় এখন ১৩ জেলা নিয়ে ঢাকা বিভাগ।
ময়মনসিংহ জেলার প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের ১লা মে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে সকল মহকুমা জেলায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার ফলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুর সকল মহকুমাই জেলায় উন্নীত হয়।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুকীম বিলস্নাহ ফারম্নকী জানান, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ভবনের বর্তমান দুর্নীতি দমন বিভাগের অফিসের দু’তলায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের অস্থায়ী কার্যালয় এবং নিচতলায় পুলিশের ডিআইজির অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন এবং বিগত ২৬ বছর ধরে আন্দোলনরত ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দালন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। জেলা নাগরিক আন্দালনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম জানান নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগ অনুমোদনের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আগামী ১৮ অক্টোবর রবিবার বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল চত্বর থেকে ময়মনসিংহে বিশাল বিজয় ও আনন্দ র‌্যালী বের করা হবে । এতে বিভাগ আন্দোলনে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তারাসহ ৪ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বসত্মরের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহন করবেন।
ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকরামূল হক টিটু বিভাগ বাস্তবায়ন করায় এবং গেজেট প্রকাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ পৌরবাসীর পড়্গ থেকে আনত্মরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত বিভাগের কার্যক্রম শুরু করার আহবান জানান। এইসাথে দ্রম্নত ময়মনসিংহকে সিটি কর্পোরেশন, শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহে অর্থনৈতিক জোন, ইমিগ্রিশনসহ হালুয়াঘাটে পূর্ণাঙ্গ স’লবন্দর স্থাপনসহ এ অঞ্চলের গণদাবীগুলো পূরণ করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান বলেন দীর্ঘ ২৬ বছর যাবত ধারাবাহিকভাবে বিভাগ আন্দোলন চলছে। তিনি বলেন, বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে, সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, গণসংযোগ, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ, মাইকিং, গণসাক্ষর অভিযান, মোটর কার র‌্যালী, রিকশা মিছিল, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:০৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৪, ২০১৫