| রাত ১১:১১ - বুধবার - ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

যে নারী, প্রকৃত নারী নয়

অনলাইন ডেস্ক | ৯ অক্টোবর ২০১৫, শুক্রবার,
ম্যাথিউ এখন চেলসি অ্যাটোনলি (৩০)। তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারী ম্যাথিউ নিজেকে আর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চান নি। তাই তিনি তিনবার অপারেশনের মাধ্যমে এখন নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। এতে বৃটেনের করদাতাদের ৩৫০০ পাউন্ডেরও বেশি তার অপারেশনে খরচ করা হয়েছে। বৃটেনের ডার্বিতে জন্মগ্রহণ করেন ম্যাথিউ। তিনি নিজেকে পারছিলেন না পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিতে, তেমনি পারছিলেন না নারী হিসেবে পরিচয় দিতে। তাই বার বার তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। একবার ভেবেছেন তিনি নারী হিসেবে পরিচিত হবেন। আবার ভাবেন নারী নয়, তিনি হবেন পুরুষ। এ নিয়ে এক অনিশ্চয়তা তাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, নারী হিসেবেই তার ভাল পরিচিতি ঘটবে। তাই বয়স যখন ১৮ বছর তখন তিনি নারী হওয়ার জন্য প্রথমবার শরীরে অস্ত্রোপচার করান। এতে তার শরীরের উপরের অংশ স্ফীত করাতে ও অন্য অঙ্গে পরিবর্তন আনতে ৫ হাজার পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সিদ্ধান্ত নেন তিনি নারী নয় পুরুষ হবেন। সিদ্ধান্ত নেন আবার তিনি ম্যাথিউ হিসেবে ফিরে যাবেন। এবারও অপারেশন করানো হয়। শেষ মুহূর্তে তিনি আবার সিদ্ধান্ত পাল্টান। এরই মধ্যে তার শরীরে  নারীর মতো পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তা হলো তার পরিচয় হবে একজন নারী হিসেবে। তিনি সারাজীবন নারী হিসেবেই বেঁচে থাকতে চান। তিনি সানডে পিপলকে বলেছেন, আমি বড় হচ্ছিলাম ম্যাথিউ হিসেবে। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিই যে আমার শরীরে যে স্তন রয়েছে তা অপারেশন করিয়ে বাদ দেব। কিন্তু যখন আয়নার সামনে যাই, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমার কান্না চলে আসে। এটা তো আমার শরীর। আমার শরীরেই বেড়ে উঠেছে এ অঙ্গ। এতে আমাকে নারী হিসেবে বেশ মানিয়েছে। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম আমি ম্যাথিউ নই। আমি চেলসি। চেলসি অ্যাটোনলি। আমি চূড়ান্তরূপে নারী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। ওদিকে পত্রিকাগুলো রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, বৃটিশ জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের ৩৫০০ পাউন্ড খরচ হয়েছে তার বার বার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে। তবে চেলসি অ্যাটোনলি মনে করেন এ অর্থ একটি সৎ উদ্দেশে খরচ হয়েছে। তিনি একবার আত্মহত্যারও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। চেলসি বলেছেন, তার বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন থেকেই তিনি মেয়েদের মতো করে পোশাক পরা শুরু করেন। আস্তে আস্তে তার বয়স বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, এ সময় স্কুলে মেয়েদের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। তখন মেয়েরা ও ছেলে শিক্ষার্থীরা তাকে মেয়ে বলে টিজ করতো। পুরুষের প্রতি রয়েছে তার আকর্ষণ। ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত তিনি মনে করতেন নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক হলো রোবোটিক বা যান্ত্রিক। তারপরেই একটি ম্যাগাজিনে নারী বিষয়ক একটি লেখা পড়েন তিনি। তারপর স্তন স্ফীতকরণের অপারেশন করান। এ সময় তার মা তাকে দিয়েছিলেন দু’হাজার পাউন্ড। সেই অর্থ নিয়ে তিনি চলে যান থাইল্যান্ড। সেখানে তার অপারেশন করান। অপারেশনের পর তিনি নিজেকে দেখে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০১৩ সালে তার মা মারা যান। একা হয়ে পড়েন চেলসি। তিনি একজন নারী হিসেবে ভালবাসা পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। গত বছর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, একজন পুরুষের সঙ্গে ঘর বাঁধবেন। তাই নতুন করে তিনি বৃটেনের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ১০০ পাউন্ড চেয়ে বসেন। উদ্দেশ্য এই অর্থ দিয়ে তার দেহে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন বন্ধ করাবেন ইঞ্জেকশন ব্যবহার করে। তিনি চুল ফেলে দিয়ে মাথা টাক করালেন। পুরুষালী লক্ষণগুলো আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে থাকে। তার ফ্যাসিয়াল করা চুল বড় হতে থাকে। এভাবেই ম্যাথিউ হয়ে ওঠেন চেলসি অ্যাটোনলি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৯, ২০১৫