| বিকাল ৪:১১ - শুক্রবার - ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | ৮ অক্টোবর ২০১৫, বৃহস্পতিবার,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে দেশের দ্রুত অগ্রগতিতে সকল প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে ও সময়মতো সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ গণভবন থেকে ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ১৫ জেলায় এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছি। প্রত্যেক এলাকায় আরো অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এ জন্য দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ সঠিকভাবে ও সময়মতো শেষ করতে হবে।
উদ্বোধনকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩টি হচ্ছে- আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইউনাইটেড আশুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট মডুলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আশুগঞ্জ মিডল্যান্ড ৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
আশুগঞ্জে এই ৩ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশে একশ’ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলো। এর মধ্যে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিগত সাড়ে ৬ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ৭৩টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রু স্থাপন করেছে।
এ ছাড়াও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সিলেটে কাজীর বাজারে নবনির্মিত সুরমা নদীর ওপর কাজীর বাজার সেতু, নয়াকান্দি সেতু, হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর- মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে নবনির্মিত কিটিংচর ও সাটুরিয়া সেতু, সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে বলভদ্র সেতু, পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দার মিল এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল রেল ক্রসিংয়ের ওপর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ, সিলেটের বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টার-সেকশন-লালবাগ-সালুটিকির- কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ এবং মানিকগঞ্জের হেমায়েতপুর- সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মানিকগঞ্জ শহরাংশ (মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে জেলা প্রশাসকের বাসভবন পর্যন্ত) ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলওয়ে মন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান ও তৌফিক ই-ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন দেশে বিদ্যুতের সংকট ছিল ভয়াবহ ।
তিনি বলেন, এ সময় বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি এবং এ সময় ক্রিকেটের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আমার সরকার ‘সেঞ্চুরি’ করেছে, এটি একটি বিশাল অর্জন।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা ২০২১ সালনাগাদ ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাবে বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এ সময় আমরা ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবো।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রাথমিকভাবে ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তবে পরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা শেষ হতে সময় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘দেশে কখনো বিদ্যুৎ সংকট না হয় সেজন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতই নয়, কৃষি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশসহ অন্যান্য খাতেও দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ এ্যাওয়ার্ড’ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প গ্রহণকালে সেখানে একটি জলাধার রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা উন্নয়নের গতি জোরদার করতে চাই।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি শেখ হাসিনা হিসেবেই থাকতে চান অন্য কিছু নয়।
আমার একমাত্র লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সিলেট, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিস ও ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রিবর্গ, সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা সদ্য নির্মিত সড়ক ও মহাসড়ক সম্পর্কে দেশের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরো উন্নয়ন করা হবে। এ সকল সড়ক ও মহাসড়কের উদ্বোধনের পর স্থানীয় পণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটে সুরমা নদীর ওপর কাজীরবাজার সেতু উদ্বোধনের পর তাঁর সরকার বিভাগীয় এই নগরীটিকে আরো আধুনিক করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই সেতু উদ্বোধনের পর এলাকায় যানজট অনেকটা কমে যাবে এবং এলাকার জনগণ এর সুফল পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নির্মিত জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য আরো আবাসস্থল নির্মাণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন হিসেবে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়া, যেনো দেশ মর্যাদার সঙ্গে চলে এবং দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
তিনি পোস্তগোলায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন আধুনিক ময়দার মিল এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকা- সম্পর্কে বলেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এগুলো একটি মাইলস্টোন হয়ে থাকবে।  (বাসস) :

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৫০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৮, ২০১৫