| সকাল ৬:৩৫ - মঙ্গলবার - ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

ময়মনসিংহে সরকারী ভুমি জালিয়াতকারী তহশিলদার রহিম ও সহযোগীদের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানাজারী

 

স্টাফ রিপোর্টার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ মঙ্গলবার,
ময়মনসিংহে দু’শত কোটি টাকার সরকারী ভুমি জালিয়াতি দায়ে দুদুকের দায়ের করা মামলায় ময়মনসিংহ পৌর ভুমি অফিসের সাবেক তহশিলদার আব্দুর রহিমসহ আরো দুইজনের নামে পৃথক দুই মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত ৩ সেপ্টেম্বর ও ৬ সেপ্টেম্বর এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয় বলে দুদকের পক্ষে আদালতের সহকারী মোঃ আব্দুল খালেকসহ আদালত সুত্রে জানা গেছে। আব্দুর রহিমের অপর সহযোগীরা হলো পাট গুদাম র‌্যালীর মোড়ের ইমান আলীর ছেলে মোঃ আব্দুস ছালাম ও কালীবাড়ি গোলপুকুর লজের চান খাঁর ছেলে আব্দুল লতিফ খাঁ। শহরের পৌর ভুমি তহশিল অফিসের দায়িত্বে থাকাকালে তহশিলদার আব্দুর রহিম এবং সাবেক সহকারী তহশিলদার আনিছুল হক কৃষ্টপুর মৌজার প্রায় ৬ একর খাস ভুমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও মালিকদের নামে নামজারী করে সরকারের প্রায় দু’শত কোটি টাকার ভুমি বেহাত করার দায়ে দুদকের দায়ের করা পৃথক মামলায় এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের অপব্যাখ্যা ও তথ্য গোপন করে শহরের কৃষ্টপুর মৌজার ৫.৯৮ একর খাস ভুমি ব্যাক্তি মালিকানায় বেহাত করায় দুদক ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ কোতোয়ালী থানায় উল্লেখিত ভূমি কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের নামে গত ৩১/৫/১১ তারিখে ৬৯, ৭০ ও ৭২ নং মামলা দায়ের করে। মামলার মতে, কৃষ্টপুর মৌজার ৪৮ ও ৪৯নং দাগের ৫.৯৮ একর খাস ভূমি মালিকানা দাবী করে মোঃ মোসলেহ উদ্দিন ১ম সাব-জজ আদালতে ২৫১/১৯৭৮ নং একটি অন্য প্রকার মামলা দায়ের করলে বাদীর অনুকুলে ২৬/১১/১৯৮১ইং তারিখে রায় ও ১৭/১২/৮১ইং তারিখে ডিক্রী প্রদান করে। রায় ও ডিক্রীর বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ ১৯৮২ সালে সপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৬৭/১৯৮২ নং সিভিল আপীল দায়ের করে। আপীলের বিষয়টি গোপন করে রেজিষ্টার টেম্পার (কলমজাদা) করে মিস কেস নং- ৩৬(১৩)৮৪-৮৫ সৃজন করা হয়। উক্ত মিস কেসের আলোকে ৪৮ ও ৪৯ নং দাগের ৫.৯৮ একর ভুমি ২নং রেজিষ্টারে ৪৭৭ নং জোত খোলা হয়। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ২’শ কোটি টাকা। উল্লেখিত জোতের যাবতীয় কার্যক্রম সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ২৩-০৩-১৯৮৯ইং তারিখে ২২২নং স্মারক মুলে এক আদেশে স’গিত করেন। অপরদিকে হাইকোর্ট বিভাগে সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত ৬৭/৮২ নং সিভিল আপীল মোকদ্দমাটি ১১/০৭/১৯৯১ইং তারিখে সরকার পক্ষে রায় হয় এবং নিম্ন আদালতের রায় স’গিত করা হয়। আদেশে বিবাদীর প্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ প্রদানেরও নির্দেশনাও প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) ০৫/১০/১৯৯৭ ইং তারিখের ১৬৪ নং স্মারকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল আপীল (এফ,এ) ৬৭/৮২ মামলাটি ডিসমিস এবং প্রতিপক্ষ মোসলেম উদ্দিনের পক্ষে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। এ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২৩/১২/১৯৯৭ ইং তারিখের ১৫৮০নং স্মারকে পূর্বের ৪৭৭নং জোত পুনঃ চালু করে এবং ৪৮ ও ৪৯নং দাগের ভূমি থেকে দায়িত্বরত প্রভাবশালী তহশিলদার আব্দুর রহিম ১৭টি ও সহকারী তহশীলদার আনিসুল হক আকন্দ ১৩টি মোট ৩০টি নুতন জোত চালু করে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করে। এতে সরকারের ৪৮ ও ৪৯ নং দাগের প্রায় ২’শ কোটি টাকা মূল্যের ৫.৯৮ একর সরকারী সম্পত্তি বেহাত হয়। মামলা তিনটির দীর্ঘ তদন- শেষে ভূমি উপ সহকারী (বর্তমান ফুলপুর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস) কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, উপ সহকারী কর্মকর্তা (বর্তমান ভারপ্রাপ- ভুমি সহকারী কর্মকর্তা ধারা ইউনিয়ন ভুমি অফিস) মোঃ আনিছুল হক আকন্দ, কথিত ভুমি মালিক আব্দুস সালাম ও আব্দুল লতিফ খা’র বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক হৃত্বিক সাহা গত ৬/৬/১৫ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এছাড়া দুদুকের সচিব মাকসুদুল হাসান খান গত ৯/৬/১৫ তারিখে স্বারক নং ১৭৩১৩, ১৭৩১৪ ও ১৭৩১৫ মামলা ৩টিতে চার্জসীট দাখিলের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান- ও জমি উদ্ধারের সিদ্ধান- সম্পর্কে পত্র মারফত জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। উল্লেখিত মামলাগুলোর মধ্যে মামলা নং ৬৯(৫)১১ যার দায়রা নং ৪/২০১৫ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩ সেপ্টেম্বর আসামী তহশিলদার আব্দুর রহিম ও ভুমি মালিক আব্দুস ছালাম এবং ৬ সেপ্টেম্বর মামলা নং ৭০(৫)১১ দায়রা নং ৫/২০১৫ আসামী তহশিলদার আব্দুর রহিম ও ভুমি মালিক আব্দুল লতিফ খার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে। এছাড়া মামলা নং ৭২(৫)১১ এর জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের একটি সুত্রে জানা গেছে, তহশিলদার আব্দুর রহিম গত ০১/০৮/২০১৫ তারিখ থেকে অধ্যাবদি বিনা অনুমোতিতে তার কর্মস’লে অনুপসি’ত রয়েছেন। যা সরকারী চাকুরী বিধি মোতাবেক শৃংখলা ও আপিলবিধি ১৯৮৫ এর পরিপনি’ এবং ৩(বি) ধারায় শাসি-যোগ্য অপরাধ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:০৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৫