| রাত ২:৫২ - সোমবার - ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ২৩শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

মিরপুরে আইনজীবীর বাসায় গৃহকর্মীর লাশ অবশেষে থানায় হত্যা মামলা

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ,০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, শুৃক্রবারঃ
রাজধানীর মিরপুরে আইনজীবীর বাসায় গৃহকর্মী তাহমিনা আক্তারের (১৪) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত তাহমিনার বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অ্যাডভোকেট মো. মামুন ওরফে লিটন ও তার স্ত্রী কচি আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবীরা মামলার বাদী জয়নাল আবেদীনকে সহায়তা প্রদান করেন। মিরপুর মডেল থানার ওসি ভূঁইয়া মাহবুব হাসান মামলা রম্নজু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার গৃহকর্মী তাহমিনা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে উলেস্নখ করে থানায় অপমৃত্যু মামলা রম্নজু করে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে লাশ কিশোরগঞ্জে নিয়ে আসার পর পরিবারের লোকজনের মুখে তাহমিনাকে নির্যাতনের বিবরণ শুনে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। তাহমিনার মৃত্যুকে ‘পাশবিক হত্যাকা-’ দাবি করে বিচারের দাবিতে ড়্গোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জ। বৃহস্পতিবার বিকালে এলাকাবাসী তাহমিনার কফিনবন্দী লাশ নিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক বিড়্গোভ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। নিহত গৃহকর্মী তাহমিনা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ছয়না গ্রামের রিকশাচালক জয়নাল আবেদীন ও হালিমা বেগমের মেয়ে।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, তাহমিনা ৭ বছর ধরে ঢাকা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মামুন ওরফে লিটনের মীরপুরের মনিপুর হাইস্কুলের পাশের ৭৬৮ হোল্ডিংয়ের ভাড়া বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতো। অ্যাডভোকেট লিটন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকার বাসিন্দা। মাসে দুই হাজার টাকা বেতনের কথা থাকলেও লিটন কোনদিন বেতন দেননি। বরং বেতন চাইলে তাহমিনার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মিরপুর থানার পুলিশ দোতলার বাসা থেকে তাহমিনার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে পাঠায়। তবে তাৎড়্গণিক খবর পেয়ে ঢাকায় অবস’ানরত তাহমিনার খালা ফাতেমা ও খালু মোমতাজ ওই বাসায় ছুটে যান। তারা তাহমিনার হাত-পা ভাঙা দেখতে পেলেও লাশ উদ্ধারকারী এসআই জহিরম্নল ইসলাম গায়ে কোন আঘাত নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। তাহমিনার লাশ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলনত্ম অবস’ায় উদ্ধার করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে লাশ উদ্ধারের সময় অ্যাডভোকেট লিটন ও তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। খবর পেয়ে তাহমিনার বাবা জয়নাল আবেদীন ওইদিনই মিরপুর থানায় গিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর এজাহার লিখে তাতে জয়নালের স্বাড়্গর নেয়।
বুধবার গভীর রাতে তাহমিনার লাশ এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিড়্গোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। পরে জেলা মহিলা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল গৃহকর্মী তাহমিনার বাবা-মাকে নিয়ে জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউলস্নাহ্‌র সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদনত্ম, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্ম দাবি করেন। তখন জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউলস্নাহ উপযুক্ত বিচারে সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন মিরপুরের ওসি ভূঁইয়া মাহবুব হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। মিরপুরের ওসি ভিকটিমের পড়্গ থেকে মিরপুর থানায় গেলে হত্যা মামলা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। এসব আশ্বাস পেয়ে বিড়্গোভকারীরা গ্রামে ফিরে গিয়ে রাতে লাশ দাফন করেন। শুক্রবার তাহমিনার বাবা জয়নাল আবেদীন মিরপুর থানায় যান। তাকে সহায়তার জন্য আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবীগণও সেখানে যান বলে জয়নাল আবেদীন জানান। এরপর নতুন করে অ্যাডভোকেট মো. মামুন ওরফে লিটন ও তার স্ত্রী কচি আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:০১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৫