| দুপুর ১:৫২ - বৃহস্পতিবার - ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১০ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীরএকটি ভবন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত : শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

শেরপুর প্রতিনিধি,৩০ আগস্ট ২০১৫, রবিবার:গত মে মাসে সংঘটিত ভূমিকম্পে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেরপুরসরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমীর একটি দ্বিতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়প্রকেকৗশলীদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ওই ভবনটি অস্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপরগত তিনমাস যাবত ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি মেরামত করার অথবা স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য শিক্ষাসচিবসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকরা হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহতহচ্ছে।বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরপুর সরকারিভিক্টোরিয়া একাডেমীর বর্তমান ছাত্র সংখ্যা এক হাজার ২শ জন। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণিপর্যন্ত প্রভাতি ও দিবা এই দুই শিফটে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। গত চারবছর ধরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলে এই বিদ্যালয়টিশেরপুর জেলায় শীর্ষস্থান অধিকার করে আসছে।বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে দুপুরে সংঘটিত ভূমিকম্পেবিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ভবনের ছয়টি শ্রেণিকক্ষে ৩৬০ জন ছাত্রেরপাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ভূমিকম্পের পরপরই শেরপুরের তৎকালিন জেলা প্রশাসকমোহাম্মদ জাকীর হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তভবনটি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে গত ১৩ মে শেরপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহীপ্রকৌশলীকে প্রধান করে গঠিত পাঁচসদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনসম্পর্কে কতিপয় সিদ্ধান্ত ও মতামত প্রকাশ করেন। কমিটি প্রদত্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতল ভবনটির বারান্দার ড্রপওয়ালেভূ-কম্পনের ফলে ছোট ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভবনটি হেলে পড়েনি, দেবে যায়নি বাঅবকাঠামোগত বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি হয়নি। এমতাবস্থায় ‘রিট্রোফিটিং’ (পুনঃ মেরামত ওসংস্কার) পদ্ধতিতে ভবনের কলাম, ছাদ ও বীমের সার্বিক সংস্কার ও মেরামত করা হলে আপাততভবনটি ব্যবহার করা যাবে বলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা একমত পোষণ করেন। তবে ভবনটি দুর্বলহওয়ায় বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে ধসে পড়ার আশংকায় এটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয় বিবেচনাকরাই শ্রেয় বলে তাঁরা (কমিটির সদস্যরা) মন্তব্য করেন। কমিটির এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ তিনমাস যাবত ভবনটিতেপাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। এর ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজারছাত্রের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী অরিত্র্য চন্দ্র ঝলক বলে, ‘সামনে আমাদের টেস্ট(নির্বাচনী) ও মাধ্যমিক পরীক্ষা। এখন অতিরিক্ত ক্লাশ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষসংকটের কারণে স্বাভাবিক ক্লাশগুলোই ঠিকমত হচ্ছেনা। ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের একটি ভবনক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই একটি করে ক্লাশ কম হচ্ছে। এতে আমাদের পড়াশোনাব্যাহত হচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েতুল ইসলাম জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণেবর্তমানে প্রতিদিন প্রতিটি সেকশনের একটি করে ক্লাশ কম নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়-অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বারান্দায় দাঁড়িয়েও ক্লাশ করে থাকে। ভূমিকম্পের পর কিছুদিনখোলা আকাশের নীচে মাঠেও ক্লাশ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিহওয়ায় মাঠে ক্লাশ নেওয়া বন্ধ রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দশম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনীপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ না দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করাসম্ভব হবে না।তিনি আরও বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের গত কয়েক বছরের ফলাফল খুবই আশাব্যাঞ্জক। কিন্তুসাম্প্রতিক সময়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ফলে ২০১৫ সালের জে.এস.সি এবং ২০১৬সালের এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তভবনটি ব্যবহার উপযোগী কি না সে বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) বিশেষজ্ঞগণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে তিনি (প্রধানশিক্ষক) গত ২৪ মে শিক্ষা সচিবসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনপর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের স্বার্থে এব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুনরায় সরকারের নিকট আবেদন জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ৩০, ২০১৫