| রাত ৯:৩৪ - সোমবার - ১লা আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

মালয়েশিয়া থেকে ফিরে প্রতারিত দুই যুবকের মামলা

 

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ, ২৭ আগস্ট ২০১৫, বৃহস্পতিবার:
কিশোরগঞ্জের ৬নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। করিমগঞ্জের মাটিকাটা গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে মঞ্জিল মিয়া গত ১৮ আগস্ট এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে নজরম্নল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট মামলা করেছেন। দু’টি মামলাতেই একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইকুলের স্ত্রী মোছা. সালমা (৩০) ও প্রতিবেশি জালাল মিয়ার ছেলে মঞ্জু মিয়াকে (৪৫) আসামী করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর উভয় মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট পার্শ্ববর্তী আন্দারমানিক গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া বাদী হয়ে সালমা ও মঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে একই আদালতে মামলা করেন।
মামলা দু’টির এজাহারে বলা হয়েছে, বিবাদী সালমার স্বামী সাইকুল মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেই সুবাদে ভাল বেতনের আশ্বাসে মঞ্জিল মিয়া ও নজরম্নল ইসলামকে বিবাদীগণ এক মাসের মধ্যে ভিসা এনে মালয়েশিয়ায় পাঠাবার প্রসত্মাব দেন। প্রসত্মাবে রাজি হয়ে বাদীগণ গরম্ন বিক্রি আর ধারদেনা করে গত ২০ ফেব্রম্নয়ারি উভয়ে তিন লাখ টাকা করে বিবাদীদের হাতে বুঝিয়ে দেন। কিন্ত এক মাসের মধ্যে তাদেরকে পাঠাবার কোন লড়্গণ না দেখে বিবাদীদের চাপ দেন। এরপর মঞ্জিল ও নজরম্নলকে ঢাকায় হযরত শাহ জালাল আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়ার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয় চট্টগ্রামে। সেখানে সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে দালালদের হাতে তুলে দেয়া হয়। বাদীগণকে একটি নৌকায় তুলতে চাইলে তারা উঠতে অস্বীকৃতি জানা। এরপর দালালরা বেত দিয়ে পিটিয়ে তাদেরকে নৌকার তোলে। তিনমাস তাদের নৌকায় কাটে। সেখানে কোন খাবার না পেয়ে পানি আর গাছের পাতা-লতা খেতে হয়েছে। এমনকি প্রাণ বাঁচাতে নিজের প্রস্রাব খেতেও বাধ্য হয়েছে। এর পর তাদেরকে নেয়া হয় মালয়েশিয়ার একটি জঙ্গলে। সেখান থেকে বাদীগণ পালানোর জন্য এদিক-ওদিক যাওয়ার চেষ্টা করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে ২ আগস্ট মঞ্জিলকে এবং ১৩ আগস্ট নজরম্নলকে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাংলাদেশে। তারা দেশে ফিরে এসে এলাকায় গিয়ে আসামীদের কাছে তাদের টাকা দাবি করলে আসামীগণ টাকা নেওয়ার কথা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন। নিরম্নপায় হয়ে প্রতারিত মঞ্জিল ও নজরম্নল দ-বিধির ৪০৬/৪১৭/৪১৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। বাদী পড়্গের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউজ্জামান জানান, শুনানিশেষে বিজ্ঞ বিচারক আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে আসামীদের বিরম্নদ্ধে সমন জারি করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:২১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৭, ২০১৫