| ভোর ৫:২৯ - শুক্রবার - ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ভেঙে গেল পাক-ভারত আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক, ২৩ আগস্ট ২০১৫, রবিবার:

সমস্যা সেই কাশ্মীরকে নিয়ে। আর তাতেই শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল ভারত-পাকিস্তান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক। ফলে কয়েক মাস আগে উফায় যে শান্তি প্রক্রিয়ার নতুন সূচনার চেষ্টা চালিয়েছিলেন দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী, তা বিনষ্ট হয়ে গেল অঙ্কুরেই।
শুধু ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে শনিবার রাতে জানিয়ে দেয় ভারত। কোনো শর্ত মেনে আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় পাকিস্তান। ফলাফল বৈঠক পণ্ড।
ফলে যে তিমির সেই তিমিরেই রয়ে গেল দু’দেশের সম্পর্ক।
অজিত দোভাল ও সারতাজ আজিজের বৈঠকে কাশ্মীর নিয়ে কথার দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তান। এছাড়া দোভালের সঙ্গে বৈঠকের আগে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও করতে চেয়েছিলেন আজিজ। এই দু’টি বিষয় নিয়েই অনড় অবস্থান নিয়েছিল দিল্লি। আলোচনা সামনে রেখে দিল্লিতে আসা হুরিয়ত নেতাদেরও আটক করা হয়। ফলে, বৈঠক বাতিল হয়।
এনএসএ বৈঠক নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ শনিবার আরও বাড়িয়ে দেয় পাক এনএসএ সারতাজ আজিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাকযুদ্ধ।
শনিবার দুপুরে ইসলামাবাদে সারতাজ আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, উফা বৈঠকের পরে যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরসহ সব বকেয়া বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী আসলে চাইছেন, কাশ্মীরের কথা ভুলে যাক পাকিস্তান। সেটা সম্ভব নয়। আজিজের দাবি, কাশ্মীর সবচেয়ে বড় বিষয়। তাঁর আরও বক্তব্য, পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে হুরিয়তের সঙ্গে কথা বলে এসেছে। তাই হুরিয়তের সঙ্গে কথা না বলার প্রশ্ন নেই। দিল্লিতে সাবির শাহ, বিলাল লোনের মতো হুরিয়ত নেতা আটক হওয়ায় উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতের উপরে চাপ বাড়াতে আজিজ বলেন, ‘‘পাকিস্তানে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা র-এর কার্যকলাপ নিয়ে আমাদের কাছে তিনটি নথি আছে।’’ তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, ‘‘এনএসএ বৈঠক না হলে জাতিসংঘের সম্মেলনে আমরা ভারতকে এই নথিগুলি দেব। জাতিসংঘের মহাসচিব, কাশ্মীরে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলিকেও তা দেওয়া হবে।’’ আজিজের দাবি, ভারত বারবার সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি ভাঙছে। পাকিস্তান কেবল আত্মরক্ষা করছে। এর পরেই পাল্টা আক্রমণে যায় দিল্লি। সুষমা স্বরাজ সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, উফা বিবৃতির ভূমিকায় সব বকেয়া বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এনএসএ বৈঠকে যে কেবল সন্ত্রাস-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে, সেটাও সেখানে স্পষ্ট বলা আছে। শিমলা চুক্তি মানলে কোনও তৃতীয় পক্ষকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সামিল করার প্রশ্নই নেই। তাই হুরিয়তকে আলোচনায় অংশীদার করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘‘ভারত-পাক বৈঠক মাত্রই ‘পূর্ণাঙ্গ’ আলোচনা নয়। কাশ্মীরসহ আটটি বিষয় পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সূচিতে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাস থামলে তবেই কাশ্মীর নিয়ে কথা হতে পারে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘নরেন্দ্র মোদী শপথগ্রহণের দিন থেকেই আলোচনা চেয়েছেন।’’
র-এর কার্যকলাপ নিয়ে নথিকেও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ওই নথি টিভিতে দেখানোর জন্য নয়। আলোচনার টেবিলে রাখার জন্য। আমরা তো পাকিস্তান থেকে আসা জীবন্ত জঙ্গিকেও হাজির করতে পারি।’’
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পাকিস্তান গোড়া থেকেই বৈঠক ভন্ডুল করতে চেয়েছে। উফা বৈঠকের পরে মোট ৯১ বার যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে পাক নিরাপত্তাবাহিনী। উধমপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়েছে পাক জঙ্গিরা। তাঁর কথায়, ‘‘পাকিস্তানের কিছু শক্তি এই বৈঠক হতে দিতে চায় না। ১০ জুলাই পাকিস্তানকে এনএসএ বৈঠকের দিন জানানো হয়েছে। প্রায় এক মাস সেটি ঝুলিয়ে রেখে পাকিস্তান ১৪ অগস্ট তার জবাব দেয়। বিএসএফ ও পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং দু’দেশের সেনার মধ্যে বৈঠক নিয়েও একই টালবাহানা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। তাতেই স্পষ্ট, তারা বৈঠক এড়াতে চাইছে।’’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:০৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৩, ২০১৫