| রাত ১১:০৬ - রবিবার - ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২৮শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

কিশোরগঞ্জ থেকে অপহৃত শিশু রাজধানীতে উদ্ধার, গ্রেফতার ২

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ ,১৩ আগস্ট ২০১৫, বৃহস্পতিবার:
কিশোরগঞ্জ থেকে অপহৃত অপূর্ব সরকার (১০) নামে এক স্কুলছাত্রকে রাজধানী ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বটতলা পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অপহরণচক্রের মূল হোতা রহিমা আক্তার রম্নহী (৪৫) ও জসিম (৩৫) নামে তার এক সহযোগী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। রহিমা আক্তার রম্নহী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকচুরী গ্রামের অটোরিকশা চালক ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী এবং সহযোগী জসিম শরিয়তপুর জেলার গোসাইহাট থানার চরমনপুরা এলাকার মৃত হাসেম মাতাব্বরের ছেলে।
পরিবার জানায়, অপূর্ব সরকার স’ানীয় বড়ভাগ মলিস্নকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবা রথিন্দ্র সরকার প্রানিত্মক কৃষক। গত ৯ আগস্ট বিকাল ৩টার দিকে বাড়ীর পাশের শ্যাম রায়ের বাজারে যাওয়ার কথা বলে অপূর্ব বাড়ী থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় বাড়ীতে ফেরত না আসলে পরিবারের লোকজন বাজার ও আশপাশ এলাকায় খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। এ অবস’ায় পরদিন ১০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি মোবাইল নম্বর (০১৯৯১-০৫৮৬৪৫) থেকে স্কুলছাত্রের মা পান্না রাণী সরকারের মোবাইল নম্বরে ফোন করে অপূর্ব তাদের কাছে রয়েছে বলে জানায়। এ সময় তারা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়া না হলে অপূর্বকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, গত ১০ আগস্ট অপহৃত স্কুলছাত্র অপূর্ব সরকারের মা পান্না রাণী সরকার তার সনত্মানকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে থানায় একটি জিডি (নং-৫৮৪) করেন। এরপরই অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খানের নির্দেশনায় কিশোরগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমটি গোপন সংবাদ ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার মহাখালী এলাকা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মূল হোতা রহিমা আক্তার রম্নহীকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বটতলা পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার প্রকৌশলী নূরম্নজ্জামান মদনের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই বাসার ভাড়াটিয়া জসিমের হেফাজত থেকে অপহৃত অপূর্ব সরকারকে উদ্ধার ও অপহরণচক্রের সদস্য জসিমকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অপহৃত স্কুলছাত্রের মা পান্না রাণী সরকার জানান, প্রতিবেশী রহিমা আক্তার রম্নহী যে এমন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হতে পারে, তা তার ভাবনাতেও আসেনি। মাস দু’য়েক আগে তিনি রহিমাকে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ এনে দিয়েছিলেন। ঋণ শোধ না করে উল্টো সে তার শিশু সনত্মানকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তিনি বলেন, ভাগ্যক্রমে ছেলেকে সুস’ অবস’ায় ফেরত পেয়েছি, এটাই বড় শানিত্ম।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রহিমা আক্তার রম্নহী জানায়, বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে সে ঢাকায় রওনা হয়। পথিমধ্যে ভৈরবে গিয়ে শিশুটিকে নতুন প্যান্ট-শার্ট কিনে দেয়। পরে ঢাকায় গিয়ে সহযোগী জসিমের ভাড়া বাসায় শিশুটিকে রেখে মোবাইল ফোনে পরিবারের নিকট তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পুলিশ জানায়, অপহরণ চক্রের হোতা রহিমা আক্তার রম্নহীর কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা অনত্মত ৭/৮ জন সহযোগী রয়েছে। তারা কৌশলে শিশু অপহরণসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৩, ২০১৫