| সকাল ৬:৪৯ - শুক্রবার - ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

শ্রীলঙ্কায় চাষাবাদের জন্য বাংলাদেশকে প্রসত্মাব শ্রীলংকার

এফএনএস : জমি লিজ নিয়ে বাংলাদেশকে সেখানে চাষাবাদ করার প্রসত্মাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ধান ছাড়াও সে দেশে চা, আদা, রসুন ও ভোজ্যতেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। উৎপন্ন ফসল শ্রীলঙ্কা থেকে সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আনাও সহজ। এ কারণে শ্রীলঙ্কা চাইছে, বাংলাদেশ সে দেশে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করম্নক। অনেক কৃষিজমি পতিত অবস’ায় রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্‌আলমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শ্রীলঙ্কার পড়্গ থেকে প্রসত্মাব পাওয়ার পর সেখানে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তবে বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে। কারণ, প্রসত্মাবটি কতটা বাসত্মবসম্মত, তা পরীড়্গা-নিরীড়্গা করার পরই বলা যাবে। সমপ্রতি সেখানে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করার প্রসত্মাব দেয় শ্রীলঙ্কা। এরপরই সেখানে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের কথা ভাবা হচ্ছে।
শাহ্‌আলম বলেন, এর আগে আফ্রিকা ও মায়ানমারে জায়গা লিজ নেয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। কিন’ সেখানে ই-বলা ও সমস্যা-সংকট এবং সংঘাতের কারণে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে এই ঝোঁক শ্রীলঙ্কার দিকে চলে গেছে। এর কারণ হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে যোগাযোগ খুবই সহজ।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার মতো এ রকম ছোট দেশের জমি বেশিদিন পতিত হিসেবে পড়ে থাকে না। নগরায়ন ও বাড়িঘর তৈরির কারণে কৃষিজমি কমে যায়। সে জন্য আমরা শ্রীলঙ্কার প্রসত্মাব দ্রম্নত পরীড়্গা-নিরীড়্গা করার চেষ্টা করছি। এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশিস্নষ্ট ইউংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার শতকরা ৩১.৮ ভাগ মানুষ কৃষিজমি নির্ভর। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস’া অনেকটাই উন্নত। তারা বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশের কাছাকাছি চলে গেছে।
তিনি বলেন, শারীরিকভাবে কৃষি কাজের প্রতি আগ্রহ হারানোর কারণে শ্রীলঙ্কায় অনেক জমি পতিত অবস’ায় পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ওই দেশে জমি লিজ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রধান ফসল ধান। দেশটির দড়্গিণে ধান আর মধ্য অঞ্চল পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সেখানে উন্নতমানের চা উৎপন্ন হয়। দেশটির প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চা। এ ছাড়া শাক-সবজি ও তেলবীজ, প্রচুর নারকেল উপকূলীয় অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে থাকে।
তবে এখানেও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামির ফলে শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা যান। ভয়াবহ সুনামির পর থেকে অনেক জমি পতিত অবস’ায় রয়েছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে গত ৩ দশক ধরে এলটিটিই’র সঙ্গে চলে আসা গৃহযুদ্ধের ফলে এসব অঞ্চলেও অনেক জমি পতিত অবস’ায় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে আদা, রসুন, ও তেলবীজের চাহিদা আছে। শ্রীলঙ্কার আয়তন ৬৫,৬১০ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ২০,২৭৭,৫৯৭ জন। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বাংলাদেশের মতোই গ্রীষ্মমন্ডলীয়। পর্যটন শিল্প থেকেও অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে শ্রীলঙ্কা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ২১, ২০১৫