| দুপুর ২:৩৬ - শুক্রবার - ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

পারিবারিক কলহের জের নান্দাইলে একই পরিবারের ৫ জন খুন

স্টাফ রিপোর্টার ও ভ্রাম্যমান  ঃ ৪ জুলাই ২০১৫, শনিবার:
পারিবারিক কলহের জের ধরে ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাশাটি গ্রামে শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের পর লাল মিয়া তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাই বিলস্নালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পিতা-পুত্রসহ ৪ জনকে হত্যা করেছে এবং বিল্লালের স্ত্রী বানেছা বেগম গুরুতর আহত করেছে। নিহতরা হলেন- বাবা বিল্লাল মিস্ত্রি (৫৫) ছেলে ফরিদ (২৬), পাভেল (১৬) ও হিমেল (১৪)। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে খোকন ভূঁইয়া নামক এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। অপরদিকে ঘাতক লাল মিয়ার ছেলে জামালের (২২) লাশ শনিবার ভোরে পুলিশ বাড়ির পার্শ্বের খালপাড় থেকে উদ্ধার করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। এলাকায় থমথমে অবস’া বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক এ ব্যাপারে বলেন, নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের মকবুল হোসেন ওরফে (বগার বাপ ) দুই ছেলে লাল মিয়া ও বিল্লালের মাঝে শুক্রবার দিন সকালের পাওয়া টাকা নিয়ে দুই ভাইয়ের মাঝে ঝগড়া হয়। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের পর লাল মিয়া তার লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাই বিল্লালের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ঘরের ভেতরে বিল্লাল হোসেন (৫৫) ও তার ছেলে নবম শ্রেনীর ছাত্র পাভেল (১৬)কে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। সেসময় বিল্লালের অপর দুই পূত্র ফরিদ (২৬) ও নবম শ্রেনীর ছাত্র হিমেল (১৪) দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির পার্শ্বে রাসত্মার উপর জবাই করে হত্যা করে । গুরুতর আহত বানেছা বেগমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস’া আশংকাজনক।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, বিল্লালের চাচাতো ভাই লাল মিয়া ও তার ছেলে কামাল ও জামাল জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানান এসপি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই খুনিরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর পরই ঘটনাস’ল পরিদর্শন করে খুনিদের আটকের নির্দেশ দিয়েছেন এসপি মইনুল হক। এরপর পরই অভিযুক্ত লাল মিয়া ও তার সহযোগীদের আটক করতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ঈশ্বরগঞ্জসহ আশপাশের পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।

প্রথম দিকে জমি সংক্রান- বিরোধের জের ধরে এ চার খুন সংঘটিত হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ এসব খুনের প্রাথমিক কারণ উদঘাটন করেছে। টাকা-পয়সা ধার না দেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট পারিবারিক কলহেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে এসআই মুরাদ আলী শেখ জানান। তিনি জানান, উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বাঁশাটি গ্রামের বিল্লাল মিস্ত্রি ও লাল মিয়া সহোদর দুইভাই। শুক্রবার (০৩ জুলাই) সকালে নিজের ছেলে কামালের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়াতে বোন কোহিলা বেগমের কাছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন লাল মিয়া।

কিন’ তার বোন এ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় তাকে এবং তার তিন মেয়েকে মারপিট করে লাল মিয়া ও তার ছেলেরা। পরবর্তীতে লাল মিয়ার ভাই বিল্লাল এ ঘটনা শুনে তার ছেলেদের নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করে। এতে তাদের মধ্যে পাল্টা মারপিট হয়।

এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নান্দাইল মডেল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা (সেকেন্ড অফিসার) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ আলী শেখ জানান, স’ানীয়দের মতে লাল মিয়া ও তার ছেলেরা পরিকল্পিতভাবে এ চার খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, স’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূইয়াসহ কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন- লাল মিয়ার ছোট ছেলে জামাল থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনিই হয়তো ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কাউকে ভাড়া করে নিয়ে আসতে পারে। পরে লাল মিয়াসহ ৪/৫ জন মিলে শুক্রবার (০৩ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে বড় ছুরি দিয়ে কুপিয়ে বিল্লাল মিস্ত্রি (৫৫) ও তার তিন ছেলে ফরিদ (৩০), পাভেল (১৮) ও হিমেলকে (১৬) হত্যা করে।

পুলিশ রাতেই ঘটনাস’লে পৌছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশের ময়না তদনেত্মর জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। একই পরিবারের চারজন খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকার লোকজন মুখ খুলছে না । তবে দুরদূরানত্ম থেকে আসা লোকজন বলেন-এ ধরণের নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। পরিবারের উর্পাজনক্ষমদের হারিয়ে হতবিহৃল হয়ে পড়েছে তার স্বজনেরা। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে বিল্লাল হোসেনের প্রতিবেশী বলেন, ‘তাদের মধ্যে দিনের বেলায় একটু মারামারি হইছে। মারামারি হইলে হাসপাতালে গেছে, আবার বাড়িত আইছে। সন্ধ্যার পরে একটু চিক্কার-টিক্কার হুনছি। একটু পরে বারিত (বাড়ি) থাইক্যা খবর আইছে বারিত তিনডা লাশ পইরা রইছে। দৌরাইয়া বারিত গিয়া দেখি যে বেলাল ভাই ও বেলাল ভাইয়ের এক ছেরা (পূত্র) দুইজন পইরা রইছে। হেদিকদিয়া আরেকজন চিল্লাইতাছে, যেই ওই রাস-ার মধ্যে আরেকটা। হেনো গেছি , গিয়া দেখি হিমেল নামের আরেকটা ছেরা পইরা রইছে। এই রমকভাবে এক পরিবারের চাইর (চার) জন মানুষ নির্মমভাবে হত্যা অইছে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেইকা এর দৃষ্টান-মূলক শাসি- ও ফাঁসি চাই।’

নান্দাইল উপজলোর ৪নং চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভুইয়া জানান, সামান্য টাকা ধার করা নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে ঝগড়া ও দিনের বেলায় সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা চিন-ার বাইরে। হত্যাকারী লাল মিয়া ও তার ছেলে কামালকে দ্রুত গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
বিল্লালের পরিবারে বেঁেচ থাকা এক ছেলে রুবেল বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ও আরেক ছেলে ক্যানসারে আক্রান- মৃত্যু পথযাত্রী । একমাত্র মেয়ে বাসাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বেচেঁ আছে। নির্বাক মুক্তা বাড়ির পাশেই মামা মামীর তত্ত্বাবধানে আছে । কারো সাথে কথা বলতে পারছে না শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে । শনিবার সকালে অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে জামালের(৩৫)লাশ বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ।ঘটনাস’লে এলাকাবাসির ধারণা ভাড়াটিয়া খুনিদের হাতে জামাল খুন হতে পারে ।

নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন, ঘটনার মোটিভ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যনত্ম থানায় কোন মামলা হয়নি। ####

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:১৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৪, ২০১৫