| রাত ১০:৪৮ - সোমবার - ২১শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি

গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবীতে সড়ক অবরোধ, ভাংচুর, আগুন, পরীক্ষা বর্জন, বিদ্যালয়ে তালা

 

আজহারুল হক, গফরগাঁও, ১০ জুন, বুধবার,
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শহীদ লেঃ আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনের অপসারন ও বিচার দাবীতে আজ  বুধবার সকালে গফরগাঁও-ধলা সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল ও কয়েকটি শ্রেণী কক্ষের দরজা-জানালা ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে পৌছলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়ে তার অপসারন ও বিচার দাবী করে।
বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শহীদ লেঃ আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দূর্নীতি ও সহকর্মী নারী শিক্ষকদের উত্যক্ত করাসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সমপ্রতি বিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলসহ স্থানীয় শিক্ষা বিভাগে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডুকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন এমপি। কিন্ত প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত রোব ও সোমবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষককে অপসারন ও বিচার দাবী করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

  আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও কয়েকটি শ্রেণী কক্ষ ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে গফরগাঁও ধলা সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা তাকে অবরুদ্ধ করে লম্পট প্রধান শিক্ষকের অপসারন ও বিচার দাবী করে শ্লোগান দিতে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, লম্পট প্রধান শিক্ষকের জন্য লোকজন আমাদেরর বদনাম করে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষকের অপসারন ও বিচার না হওয়া পর্যনত্ম আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিদ্যালয়ের পরিসি’তি ভাল নয়। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরে বিচারের আশ্বাস দিয়ে শানত্ম করা হয়। এছাড়াও তিনি জানান, তদনেত্মর পাশাপাশি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বলেন, আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে আছি। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:০৭ অপরাহ্ণ | জুন ১০, ২০১৫