| রাত ১০:১২ - শনিবার - ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

কর্মসৃজন কর্মসূচী পূর্বধলায় ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা

 

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ঃ ৬ জুন ২০১৫, শনিবার,
পূর্বধলা উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর ৪টি প্রকল্পে কাগজে-কলমে ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে। এলাকার অতিদরিদ্র লোকজনের হাতে যখন কোন কাজ থাকেনা, অর্থকষ্টে দিন কাটায় এ সময়টাতে তাদের অর্থকষ্ট লাঘব করতে সরকার এ কর্মসূচী চালু করলেও প্রকল্প সম্পর্কে শ্রমিকদের কোন ধারনা না থাকায় কতিপয় অর্থলোভী কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য ও নেতৃস’ানীয় সুবিধাবাদীদের বদৌলতে এ কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে এবং গচ্চা যাচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা। শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য সূবিধা থেকে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের কর্মসৃজন কর্মসুচীর (২য় পর্যায়) আওতায় গোহালাকান্দা ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্পে সপ্তাহে ৫দিন প্রতিদিন ২০০ (দুইশত) টাকা হারে ১৭১ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম শ্রমিক হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়। কিন’ প্রতিটি প্রকল্পেই নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে অনেক কম শ্রমিক কাজ করছেন। কিন’ প্রকল্প সভাপতিরা সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাগজে কলমে হাজিরা দেখিয়ে অনুপসি’ত শ্রমিকদের মজুরীর টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভূয়া শ্রমিকদের তালিকায় রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং সমর্থকদের নাম রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের কোন কাজ করতে হয়না। যারা ভি.আই.পি শ্রমিক হিসেবে পরিচিত। এ ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্পে মোট ১৭১জন শ্রমিকের নাম থাকলেও সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে ১০৬ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। অবশিষ্ট শ্রমিকরা কাজে না আসলেও তারা ব্যাংক থেকে মজুরীর টাকা তোলার সময় এসে সামান্য অর্থের বিনিময়ে টাকা তুলে দেবেন এবং বাকী টাকা সুবিধাবাদী মহলটি নিজেদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে জালশুকা জমজম পাম্প থেকে মহিষবেড় গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পর্যনত্ম রাসত্মা পুনঃনির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় এ প্রকল্পে কোন কাজ হচ্ছেনা। খবর নিয়ে জানাযায় এখানকার শ্রমিকরা মূল প্রকল্পে কাজ না করে মহিষবেড় গ্রামের কছম উদ্দিনের বাড়ির কাছে অন্য একটি প্রকল্পে কাজ করছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ৫৫জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ১৭জন কাজ করছে। এ প্রকল্পের সভাপতি জানান, এখানকার ৪জন শ্রমিক অন্যত্র কাজ করছে। তাদেরকে নিয়ে এখানে উপসি’ত শ্রমিক সংখ্যা হয় ২১জন আর অনুপসি’ত ৩৪জন। প্রতিদিন ২০০(দুইশত) টাকা হারে ৩৪ জন শ্রমিকের ৪০দিনের মজুরী হয় ২লাখ ৭২হাজার টাকা। যা হাতিয়ে নেবার অপচেষ্টা চলছে। প্রতিটি প্রকল্পেই চলছে এ অবস্থা। এ প্রকল্পের বাসনিত্ম রবিদাসসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, ইতোপূর্বে প্রথম পর্যায়ের কাজ চলাকালে তাদেরকে ৭দিন কাজ কম করানো হয়েছে এবং ওই ৭দিনের মজুরী প্রকল্প সংশিস্নষ্টরা আত্মসাত করেছেন বলে তারা দাবী করেছেন। এ ছাড়া শাহজাহান মেম্বারের শালদিঘা খোরশেদ আলীর বাড়ি থেকে পাতকাটা ব্রীজ পর্যনত্ম রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ৩৪ জনের মধ্যে ৪জন, হাটবাড়েঙ্গা গ্রামে খোকন মেম্বারের প্রকল্পে ৪৬জনের মধ্যে ১৩জন ও নশ্বাই কান্দুলিয়া গ্রামে আলীম মেম্বারের প্রকল্পে ৩৬জন শ্রমিকের মাঝে ১৪জনকে অনুপসি’ত পাওয়া গেছে। এ ৩ প্রকল্পে মোট অনুপসি’ত ৩১জন। প্রতিদিন ২০০(দুইশত) টাকা হারে তাদের বরাদ্দ ২লাখ ৪৮হাজার টাকা। এ টাকাও হাতিয়ে নেবার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাসত্মবায়ন কর্মকর্তা মীর মোর্শেদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনুপসি’ত শ্রমিকদেরকে মজুরীর টাকা কোন অবস’াতেই দেয়া হবেনা। এ কর্মসূচীর প্রথম পর্যায়ের কাজ চলাকালে ৭দিন কাজ না করিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গে পিআইও বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না এবং শ্রমিকরাও এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ করেননি। এ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিড়্গা অফিসার আবু রায়হান জানান, তিনি তার দাপ্তরিক কাজে ব্যাসত্ম থাকায় অদ্যাবধি কর্মসৃজন কর্মসূচীর কোন প্রকল্প পরিদর্শন করতে পারেননি। ফলে কর্মসূচী কিভাবে চলছে তিনি তা জানাতে পারেননি। তবে শীঘ্রই তিনি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:২২ অপরাহ্ণ | জুন ০৬, ২০১৫