| বিকাল ৩:২৫ - শনিবার - ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

সরিষাবাড়ীর পিংনায় যমুনার ভাঙ্গনে একটি ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলীন ॥ অন্যত্র আশ্রয়

 

জামালপুর প্রতিনিধি:০৫ জুন, শুক্রবার,

প্রমত্তা যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই ওয়ার্ডের লোকজন পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নে চর সোনামুই ও ভাদাই গ্রামে বসতি গড়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের বাশুরিয়া মৌজা, চর বাশুরিয়া মৌজা, পানিবাড়ী মৌজা ও কবলিবাড়ী মৌজা নিয়ে ৮নং ওয়ার্ড। গত ৩ বছরে প্রমত্তা যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে এই ৪ মৌজার ফসলি জমি, বসতবাড়ী, গাছপালাসহ পুরোটাই বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়া এই চার মৌজার লোকজন সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নিঃস্ব এসব লোকজন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নে চর সোনামুই ও ভাদাই গ্রামে বসতি গড়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল জেলার ভোটার হয়েছেন।
বাশুরিয়া গ্রামের স্বপন মিয়া, টিপু মিয়া, আব্দুল হাই, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার জানান, যমুনা তাদের সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। খেয়ে ফেলেছে তাদের স্বপ্ন। বসতবাড়ী, ফসলি জমি হারিয়ে তারা এখন সর্বশান-। নিশ্চিহ্ন হয়েছে তাদের পুরো ৮ নং ওয়ার্ডটিই। চর বাশুরিয়া গ্রামের জামাত আলী, কবলিবাড়ী গ্রামের আফছার আলী, পানিবাড়ীর আব্দুস সাত্তার একই কথা জানান। তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, সরকার নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা এখন সর্বশান- হয়েছেন। তারা জানান, ৮নং ওয়ার্ডটি বিলীন হওয়ায় ওই ওয়ার্ডের বেশীরভাগ লোকজন অন্য জেলায় বাস করছেন। যারা এলাকায় আছেন তারাও এখন অন্য ওয়ার্ডের পরিচয় বহন করছেন। যমুনা নদী পাল্টে দিয়েছে এলাকার মানচিত্র। ৮নং ওয়ার্ডটি নতুন করে পুনগঠনসহ পিংনা ইউনিয়নের নতুন নকশা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় আগামী নির্বাচনে ব্যাপক সমস্যার সন্মুখীন হবেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এবং ভোটাররা।
পিংনা ইউপির চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জানান, যমুনার ব্যাপক ভাঙ্গনে গত ৩ বছরে ৮নং ওয়ার্ডের ৪ মৌজার পুরোটাই নিশ্চিহ্ন হয়েছে। অনেকেই পাশ্ববর্তী জেলা ও অন্য ইউনিয়নে বসতি করেছে বলেও জানান তিনি।#

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | জুন ০৫, ২০১৫