| রাত ১:৩৭ - শুক্রবার - ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় দেবে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক,২০ মে ২০১৫, বুধবার:

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সমুদ্রে ভাসমান হাজার হাজার বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান অভিবাসীদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। দেশ দুটি প্রায় ৭,০০০ অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। এদিকে এ অঞ্চলের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে সমুদ্রে ভাসমান বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ফিলিপাইন সরকার। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় আজ অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান ৭,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ‘মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে’। তিনি বলেন, আগামী ১ বছরের মধ্যে অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, এই শর্তে আমরা তাদের সাময়িক আশ্রয় প্রদান করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ভয়েস অব অ্যামেরিকা ও গার্ডিয়ান। অন্যান্য রাষ্ট্র ও এনজিওকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। অভিবাসীদের তীরে ভেড়াতে অনিচ্ছুক ৩ দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ গুরুত্বপূর্ণ এক সম্মেলনে অংশ নেন। বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে থাইল্যান্ড বাকি ২ দেশকে অনুসরণ করবে কিনা, সে ব্যাপারে এখনও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে থাইল্যান্ডও অভিবাসীদের সব ধরনের মানবিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মিয়ানমার ওই সম্মেলনে অংশ নেয়নি। এদিকে মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোটে থাকা বিপন্ন এ মানুষগুলোর দুর্দশায় মিয়ানমার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রে দুর্দশাক্লিষ্ট যে কোন মানুষকে মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে মিয়ানমার। এতে আরও বলা হয়, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বিশেষভাবে প্রচেষ্টা চালাবে সরকার। ইন্দোনেশিয়া এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে আরও প্রায় দেড় হাজার অভিবাসীকে তীরে ভিড়িয়ে সাময়িক আশ্রয় দেয়া হয়েছে। অনলাইন গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সমুদ্রে ভাসমান অবৈধ হাজার হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার প্রশাসন। দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো যখন মরিয়া অভিবাসীদের নিয়ে ‘পিং-পং খেলা’ খেলছে, তখন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে চায় ফিলিপাইন। জাতিসংঘের শরণার্থী নীতির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রসমূহের একটি ফিলিপাইন। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানরা যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি থেকে ও দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত বাংলাদেশীরা উন্নত জীবিকার আশায় পালিয়ে ফিলিপাইনে আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন। এমন একটি সূত্র উল্লেখ করে স্থানীয় একটি সংবাদ-মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের প্রায় ৮,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে উপকূল থেকে ফিরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ফিলিপাইনের। এ ধরনের খবরের সত্যতা প্রত্যাখ্যান করেছে ম্যানিলা এবং অভিবাসীদের জন্য মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনোর মুখপাত্র হারমিনিও কোলোমা বলেছেন, ফিলিপাইন বোটে থাকা মানুষদের প্রতি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে ফিলিপাইন এবং ৭০’র দশকে ভিয়েতনামের আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য একটি শরণার্থী কেন্দ্রও গড়ে তুলেছিল। কোলোমা আরও বলেন, জীবন বাঁচাতে আমরা আমাদের অংশের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবো। এদিকে ম্যানিলার এ বিবৃতিও আশার আলো জাগাচ্ছে। এ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও  থাইল্যান্ড প্রায় ৩,০০০ অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু, সাগরে ভাসমান অবস্থায় অনিশ্চিত জীবনের মুখে রয়েছেন আরও হাজার হাজার অভিবাসী। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর মুখপাত্র জো লোওরি বলেছেন, এটা আশাব্যঞ্জক লক্ষণ। আমরা আশা করি, এ অঞ্চলের সরকারসমূহও তাদের নিজেদের অবস্থানেরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবেন। তিনি বলেন, আমরা ১০ দিন ধরে বলছি যে, সরকারসমূহের (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড) উচিত অভিবাসীদের তীরে ভিড়তে দেয়া। আমরা জানিনা এ পর্যন্ত কতোজন প্রাণ হারিয়েছেন। অবশ্য, এরপর ওই সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলো, যা হয়তো সঙ্কট উত্তরণের পথের দিক-নির্দেশনাই দিচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | মে ২০, ২০১৫