| দুপুর ২:১১ - সোমবার - ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ঈশ্বরগঞ্জে বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি-২০ মে ২০১৫, বুধবার,
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সন্ত্রাসীরা বাড়ী ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত রাত তিন টার দিকে উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের দক্ষিন বড়ভাগ গ্রামে সন্ত্রাসীরা ওই তান্ডব ঘটিয়েছে বলে জানা যায়। মহিলাদের আর্তচিৎকারে গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের প্রস্তুুতি চলছে।
সরেজমিন এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের দরম্নন বড়ভাগ গ্রামের মৃত সাহেদ আলীর ছেলে চা দোকানের শ্রমিক মাসুদের সাথে একই এলাকার নজরম্নল ইসলামের ছেলে শাহীনের সাথে এলাকায় জমি ক্রয় নিয়ে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভূমিহীন চা দোকানের শ্রমিক মাসুদের পিতা মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অসুস’তায় ভোগে বাড়ির শেষ সম্বল টুকু বিক্রয় করে চিকিৎসার ব্যায় মিটাতে ভূমিহীন হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। ভূমিহীন এতিম ছেলেমেয়ে গুলোকে নিয়ে মাসুদের মা পরের জায়গায় ঘর তৈরী করে বসবাস করে আসছিল। সম্প্রতি চায়ের দোকানে কাজ করে মাসুদ কিছু টাকা জমিয়ে প্রতিবেশী কাঞ্চন মিয়ার কাছ থেকে একটি ঘর বাধার মতো জমি ক্রয় করেন। জমি টুকু বিরোধী পক্ষ ক্রয় করতে না পেরে মাসুদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। হয় চাঁদা দিতে হবে নইলে জমির দখল ছেড়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে হবে মর্মে অব্যাহত হুমকী দিতে থাকে। এরই জেরধরে গত সোমাবার দিবাগত রাত তিন টার দিকে শাহীন ও তাদের ভাই পলিন, সালেহীন তার মামা মতিউর রহমান, মামাতো ভাই তুহিন, জেবিন গংরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাসুদের বাড়ীঘরে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা চা দোকানের শ্রমিক মাসুদের ২টি বসত ঘর, অটোড্রাইভার কাজলের ১টি ঘর, সাইকেল মেকার নোমানের ১টি ঘর ও দিনমজুর মজিদ ও হাবিবুলস্নাহর ১টি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় পাঁচ-ছয় লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শাহীনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ীতে থাকা তার মামা মতিউর রহমান হামলা ও লুটপাটের ঘটনাটি অস্বীকার করে তারা নিজেরাই ঘটিয়েছে বলে উলেস্নখ করেন।
প্রতিবেশী আব্দুল কাদির মাস্টার জানান, রাতে মহিলাদের চিৎকার শুনে তার ঘুম ভাঙে। পরে তিনি জানতে পারেন মুসুদের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়েছে। ভয়ে গ্রামের কোন মানুষ তাদের সাহায্য করতে আসেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনার সময় বাড়ীতে ছিলেন না তবে অন্য লোকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে শুনেছেন রাতের আধাঁরে মাসুদের বাড়ী ঘরে হামলা হয়েছে। আদালতে কাজ থাকায় ঘটনাস’ল তিনি পরিদর্শণ করতে পারেন নি।
সোহাগী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন তবে অসুস্থতার কারনে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন নি। কয়েক দিন পর পর এ রকম ঘটনা ওই চক্রটি ঘটিয়ে থাকে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন জানান, ইতিপূর্বে তাদের আরেকটি মামলার তদনত্ম কাজ চলছে। তবে বাড়ী ঘরে হামলার বিষয়টি তিনি জানেন না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৪৭ অপরাহ্ণ | মে ২০, ২০১৫